11:57 am - Monday September 25, 2017

Breaking :

‘এভাবে কেউ হারতে চায় না’

untitled-24_148975মাশরাফি বিন মর্তুজা দিন দিনই কথাবার্তায় মুগ্ধ করে চলেছেন। দল হারলেই সম্ভবত সেটা সবচেয়ে বেশি বোঝা যায়! ‘ব্রেন অব বাংলাদেশ ক্রিকেট’ মাশরাফিকে বলাটা তাই মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। অসাধারণ অকপট তিনি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটে হেরে যাওয়ার পর তাই কিছুই লুকালেন না। বাস্তবের মাটিতেই পা রাখতে চাইলেন। দক্ষিণ আফ্রিকাকে ভালো খেলার কৃতিত্ব দিলেন। আর নিজের দলের ব্যাপারে তার কথাটার সারাংশ হলো, বাংলাদেশ আরও ভালো খেলতে পারে। এভাবে কোনো দলই আসলে হারতে চায় না! গতকাল বাংলাদেশ অধিনায়ককে করা শেষ প্রশ্নের উত্তরে যা বললেন, সেটাই হয়তো পুরো কথার আসল কথা।

ভারতের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে পরাজয়ের পর, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি টি২০ ও প্রথম ওয়ানডেতে হারের পর আসলে পরাজয়ের বৃত্তে ঢুকে পড়ল বাংলাদেশ। আগামী ম্যাচের জন্য অধিনায়কের বার্তা কী হবে? মাশরাফি বললেন, ‘হারজিৎ খেলায় থাকবেই। ২ উইকেটে হারাও হারা, ১০ উইকেটে হারাও হারা। এভাবে কেউ আসলে হারতে চায় না। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। এর থেকে ভালো খেলা আমাদের পক্ষে সম্ভব। সবার সঙ্গেই কথা বলব। আশা করি, আগামী ম্যাচে ভালো কিছু হবে।’ টানা তিন দিন বৃষ্টির কারণে উইকেট ঢাকা ছিল। এই উইকেট কেমন আচরণ করবে, সেটা দেখারই বিষয় ছিল বটে! সেই উইকেটে টসে জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক ব্যাটিং নিলেন। সবাই হয়তো হতবাক! তবে ম্যাচ শেষে কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে এক বিন্দুতেই দাঁড়ালেন দুই অধিনায়ক। মাশরাফি আগে এসে বললেন, ‘আমি একটা বলও সুইং করতে দেখিনি।

আমরা আসলে ভালো ব্যাটিং করতে পারিনি। অন্তত ২০০ রান করতে পারলে এই উইকেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারতাম। আমি ঠিক বুঝছি না, বারবার কেন টসের কথা আসছে।’ এর আগেও উত্তরে বলেছেন, ‘উইকেটে তেমন কিছুই ছিল না। ধারণা করেছিলাম ভালো ব্যাটিং উইকেট। সমস্যার কিছুই ছিল না।’ হ্যাঁ, কাল সংবাদ সম্মেলনে উভয় অধিনায়কের কাছেই ‘উইকেট’ বেশ বড়সড় প্রশ্ন হয়েই হাজির হলো। মাশরাফিকে তো তাও বেশ কয়েকবার উত্তর দিতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা এক কথাতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই উইকেটে টসে জিতলে তিনিও ব্যাটিংই নিতেন।

বোদ্ধার মতো তাকিয়ে আমলা বললেন, ‘টসে জিতলে আমিও হয়তো ব্যাটিংই করতাম। শেষ দিকে উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব একটা ভালো ছিল না। ফেপ ও রুশো যেভাবে ব্যাট করেছে সেটা অবশ্যই কৃতিত্ব দাবি করে। উইকেট অনেক মন্থর হয়ে গিয়েছিল শেষ দিকে।’ বাংলাদেশ অধিনায়ক দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কৃতিত্ব দিয়েছেন। আর প্রোটিয়া অধিনায়ক তো তার বোলারদের পারফরম্যান্সে যারপরনাই খুশি। কাজিসো রাবাদার প্রশংসাও করলেন দারুণ। বললেন, ‘আমাদের শুরুটা খুবই ইতিবাচক হলো। একদম আশানুরূপ পারফরম্যান্স।

১৬০ রানে আটকে ফেলাটা খুবই সন্তোষজনক ব্যাপার ছিল। আমার মনে হয়, কেজির (রাবাদার ডাক নাম) বোলিংটাই ম্যাচে তারতম্য গড়ে দিয়েছে।’ সঙ্গে ৬ উইকেট পাওয়ায় নিজের বিস্ময়ও লুকিয়ে রাখতে পারলেন না। বললেন, ‘যে কারও ওয়ানডেতে ৬ উইকেট নেওয়া বিস্ময়কর। কারণ, ওয়ানডেতে এটা অহরহ ঘটে না। কেজির জন্য শুভকামনা।’ মাশরাফি মর্তুজার কথা দিয়েই শেষ করা যাক। যে কথাটা থেকে প্রেরণা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে দল। মাশরাফি বললেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা অনেক ভালো দল, এটা আমি অনেক আগেই বলেছি। তবে, এই নয় যে, আমরা এভাবেই খেলব।

আমাদের আরও দুটি ম্যাচ আছে। ঘুরে দাঁড়ানোরও সুযোগ আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা নিঃসন্দেহে বড় দল। তবে, আমাদের আরও ভালো খেলার সুযোগ আছে।’ একটা আফসোসই হয়তো বাংলাদেশ অধিনায়ককে পুড়িয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকবারই বললেন, ‘২০০-২২০ রান করতে পারলে আমাদের ভালো সুযোগ ছিল।’ রাবাদার শুরুর ওই হ্যাটট্রিকে অঙ্কিত ধসটাই আসলে এই ম্যাচের ফলের রূপকার হয়ে দাঁড়াল! -সমকাল

Filed in: Uncategorized
Facebook Comment

No comments yet.

Leave a Reply

You must be logged in to post a comment.